সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের পুনর্বহালের দাবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে এনবিআরের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, আব্দুর রহমান খান দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে এনবিআরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার পর তিনি অবসরে যান। অভিযোগ রয়েছে, অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশাসনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ১২ থেকে ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ১০ থেকে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যানের দপ্তরে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি করা হয়নি। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, তদবির ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি করা হতো না এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নেতৃত্বে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে, পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।