
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সিডিএতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেমে আছে, নির্মাণ শেষ হলেও কয়েকটি আধুনিক মার্কেট চালু হয়নি এবং বড় বড় মার্কেট থেকে কোনো ভাড়াও আদায় হচ্ছে না। এমনকি শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকে টোল পরিশোধ করছেন না, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও স্থবিরতা কাটিয়ে সিডিএকে জনবান্ধব ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কঠোর অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত শুরু করেছি। এ কঠোর অবস্থানে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সিডিএর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি প্রবর্তক মোড়, হিজড়া খাল, কাপাসগোলা ও চাক্তাইসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পাঁচটি খালের কাজেরও প্রায় ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই সেগুলো সম্পন্ন হবে। বহুতল ভবন উচ্ছেদ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, একসময় চাক্তাই খাল ছিল নগরবাসীর জন্য অভিশাপ। আধুনিক সুইসগেট নির্মাণের মাধ্যমে সেটিকে আশীর্বাদে পরিণত করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুম থেকেই নগরবাসী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে। তবে প্রকল্পের সফলতা ধরে রাখতে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। খালে-নালায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই টোল না দিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করেন। আমি নিজেও আজ টোল পরিশোধ করে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেছি। সরকারি কর্মকর্তা হলেই সব ধরনের সুবিধা বিনা মূল্যে পাওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকল্পটিকে লাভজনক করতে যেমন : যানবাহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে, তেমনি সবাইকে নিয়মিত টোল পরিশোধ করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে কারা টোল দিচ্ছেন না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট এড়িয়ে সহজে নগরীতে যাতায়াত করতে পারবেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজট কমবে এবং পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এতে সময় ও অর্থ-উভয়ই সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকাটি ইতোমধ্যে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর অবসর কাটানোর মতো জায়গার অভাব রয়েছে। সিআরবির বাইরে মানুষের বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেখানে পর্যটকবান্ধব একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বেলায়েত হোসেন বলেন, দুর্নীতি, অবৈধ দখল এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে সিডিএকে মুক্ত করে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং চট্টগ্রামকে নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।















