
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীনস্থ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা-পশ্চিমে কর্মরত সিপাই জনাব আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন নিজ দপ্তরে বহাল থেকে ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা-পশ্চিম কমিশনারেটের বর্তমান কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধেও।
সূত্র জানায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট প্রণয়নে সহায়তার লক্ষ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে দ্বিতীয় সচিব মোঃ নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের এক আদেশে সিপাই আব্দুর রহমানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বদলি করা হয়। তবে তিনি সেই আদেশ অমান্য করে এখনও ঢাকা-পশ্চিম কমিশনারেটেই বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দিনের প্রত্যক্ষ সমর্থনে আব্দুর রহমান সিপাই দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং ঘুষ বাণিজ্যের একটি চক্র পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন কমিশনারের দপ্তরে দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ গড়ে ওঠে, যা ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা-পশ্চিমের অধিক্ষেত্রাধীন মানিকগঞ্জ বিভাগের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মারুফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির হিসাব-নিকাশ ও মাসিক কাগজপত্র নিজেই নিয়ন্ত্রণ ও দাখিল করেন সিপাই আব্দুর রহমান।
তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৪ মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ছিল ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫% ভ্যাট হিসেবে সরকারের প্রাপ্য ছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি জমা দিয়েছে মাত্র ২৯ হাজার টাকা।
ফলে এক মাসেই প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কমিশনার কাজী ফরিদ উদ্দিন পূর্বে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে একই দপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময় থেকেই আব্দুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের প্রেক্ষিতে প্রভাব খাটিয়ে তাকে পশ্চিম কমিশনারেটে রাখার জন্য সুপারিশ ও তদবির করা হয়।
এছাড়াও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে দপ্তরে একটি অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা সরাসরি দেশের রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে আব্দুর রহমান সিপাই চট্টগ্রামে অবস্থান করে বিলাসবহুল জীবনযাপন ভ্রমণ করছেন বলেও জানা গেছে, যা তার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা মনে করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি রোধ করা যায় এবং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
দুর্নীতির এই অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দেশের রাজস্ব খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।















