
রবিউল হাসান, শিবচর(মাদারীপুর): জনবল সংকটসহ নানান সমস্যায় চরম দুর্ভোগে জর্জরিত মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১০০শয্যার আধুনিক ভবন থাকলেও, চিকিৎসা সেবা চলছে ৫০শয্যার চেয়ে কমসংখ্যক জনবল দিয়ে। যা উপজেলাটির জনগনের জন্য অপ্রতুল্য। এতে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ থাকলেও ডাক্তার নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কোনো রকমে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। আইসিইউ কক্ষ আছে তবে তালাবদ্ধ, গাইনি ওয়ার্ডে তালা। নেই অভিজ্ঞ কোনো চিকিৎসক। ফলে হতদরিদ্র রোগীরা পড়ে ভোগান্তিতে। পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় মাঝে মধ্যেই টয়লেট ও গোসলখানায় ময়লা পানি জমে। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া দায় হয়ে পড়ে। পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এছাড়া হাসপাতালে উঠা-নামা করতে দুটি লিফটই ত্রুটির কারনে বন্ধ। নেই নিরাপত্তাকর্মী, মালি। ট্রলিম্যান না থাকায় মুমূর্ষ রোগীকে উঠাতে হয় ভ্যানে করে। এতো আধুনিক এই হাসপাতালের এই বেহাল দশা দেখে হতভাগ সাধারন মানুষ।
চিকিৎসা নিতে আসা শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, “এত বড় একটা হাসপাতাল অথচ ডাক্তার পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নকর্মী নেই, নার্স যা আছে তা না থাকার মতো। হাসপাতালের টয়লেটে গেলে বমি আসে। হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মানও ভালো না। আধুনিক হাসপাতাল নামে হলেও কাজের বেলায় কিছুই না। এভাবে হাসপাতাল চলতে পারে না।”
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই বললেই চলে। বিশেষ করে টয়লেট ও গোসলখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের ৪-৫তলায় নিতে হয়। সেই রোগীদের উপরে উঠানোর জন্য ট্রলি নেই, ভ্যানে চড়িয়ে অথবা কাঁধে করে উঠাতে হয়। হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য ২টি লিফটের ২টিই নষ্ট। আইসিও কক্ষ আছে, কিন্তু আইসিও ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সার্বক্ষনিক তালা দ্য়ো থাকে। ১০০শয্যার একটা আধুনিক হাসপাতালের এমন বেহাল দশা দেখে আমরা হতবাক।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, হাসপাতাল অনুযায়ী এখানে জনবল নেই বললেই চলে। কোনো রকমে জোরাতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে হাসপাতালটি। হাসপাতালটিতে জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা ১০জন, কর্মরত আছে ৭জন, শূন্য পদ রয়েছে ৩জন। সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার থাকার কথা ৪১জন, কর্মরত রয়েছে ২৬জন, শূন্য পদ রয়েছে ১৫টি। নার্স মিডওয়াইফ থাকার কথা ৩৭জন, কর্মরত আছে ৩০জন, শূন্য পদ রয়েছে ৭জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা ৮জন, কর্মরত রয়েছে জন, শূন্য পদ রয়েছে ৫টি। স্যাকমো পদে থাকার কথা ২০জন, কর্মরত রয়েছে ২জন, শূন্যপদ ১৮জন। ফার্মাসিস্ট থাকার কথা ৫জন, কর্মরত রয়েছে ৩জন, শূন্য পদ ২জন। ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক/মশালচি, পরিচ্ছন্নকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, মালিসহ চর্তুথ শ্রেনী কর্মচারীর বেশিরভাগ জনবলই শূন্য। যার ফলে এসকল জনবলের কারনে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাতেমা মেহজাবিন জানান, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে আমাদের আন্তরিকতার কমতি নেই। তবে, জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিসশিম খেতে হচ্ছে। ১০০শয্যার নতুন ভবন পেলেও, এখনও লোকবল বাড়াতে পারিনি। শূন্য পদে লোকবলের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।















