মানিকগঞ্জে মারুফ এন্টারপ্রাইজে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ: ৯ সদস্যের টিম ‘ম্যানেজ’, অভিযানে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মেসার্স মারুফ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেট অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও তা ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযানে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত টিমকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে তদারকিতে শিথিলতা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমে সহকারী কমিশনার ছবি রানী দত্ত (সদস্য সচিব), রাজস্ব কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ মোট ৯ জন সদস্য রয়েছেন। বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ, তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ।

সূত্র জানায়, অভিযানের শুরুতে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তের গতি কমে যায়। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে টিমকে ‘ম্যানেজ’ করার ফলে কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়েছে এবং প্রকৃত তথ্য গোপনের চেষ্টা চলছে।

মারুফ এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে মশার কয়েল, ডিটারজেন্ট, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, চকলেট, সরিষার তেলসহ নানা পণ্য। তবে এসব পণ্যের অনেকগুলোর ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন নেই এবং ভ্যাট নির্ধারণ প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করলেও সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট যথাযথভাবে পরিশোধ করছে না। পাশাপাশি নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের অভিযোগও রয়েছে, যা ভোক্তাদের ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, রাজস্ব খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।