
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চলমান সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মানস কুমার বর্মনের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে তার পদোন্নতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এনবিআর ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচিতে মানস কুমার বর্মন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। এ আন্দোলনে কাস্টমস ও ইনকাম ট্যাক্সের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের স্বাক্ষরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব ব্যবস্থার মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত, বদলি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড দিয়ে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরগতির বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই সিনিয়র কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানস কুমার বর্মনের পদোন্নতি নিয়ে বিশেষ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে কমিশনার পদে পদোন্নতি পেলেন, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অন্তত পাঁচজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে পদোন্নতি পেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং আর্থিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেন, তার পরিবারের একজন সদস্য সচিব পদে থাকায় তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনের সময় মিছিল ও ব্যানারের সামনে তার সক্রিয় উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতে, আন্দোলনের জেরে অনেককে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকের কিছু মামলার যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এনবিআরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলেন, দেশে অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তার অভাব নেই—প্রয়োজন শুধু সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।















